প্রথম বর্ষ; দ্বিতীয় সংখ্যা; সেপ্টেম্বর ২০১৭


ভিন্নমতের মগজ চাষ ... 

ফেরিওয়ালা শব্দের ঘাটে ধুয়ে নিচ্ছে মিছিলের কণ্ঠস্বর। গোষ্পদ আলোয় যারা জিগির তুলছে,গোষ্ঠীসুখ যাদের রগের কানায় কানায় তারাতো ঘাসের বুকে বিলি কাটবেই। যে উৎসবে নিজেকে টিকিয়ে রাখার কৌশলে বাতিলের স্বরধ্বনি আর ব্যঞ্জনধ্বনি বেজে উঠে তারাতো এক যুগ স্থির থাকতে পারেনি। সাহিত্যের গলিতে যখন কোন ভ্যাপসা গন্ধে মাতাল হয়ে উঠে জোনাকিরা তখন বুঝে নিতে অসুবিধে হয়না ভিন্নমতের ঢেউ উঠবেই। মগজ চাষ যারা করে তারা প্রতিটি গল্পকেও সাজিয়ে তুলে বৃদ্ধ আগাছাগুলিকে রাঙিয়ে।সেই পথকে অস্বীকার করতে করতে তারা হারিয়ে যাবে রাত পোহানোর পূর্বেই।একদল হাসবে আরেকদল ভাসবে। শূন্যস্থান ভরাট করার শর্তে লাফ দেবে ল্যাজ কাটা সময়। জানালা খুলতেই দেখতে পাবো ঘর্মাক্ত নাবিক কাদাজলে খুঁজছে প্রচ্ছদের রঙ... 

কবিতা - সন্তোষ রায়


ঘূর্ণি

বর্ণ ঘুরে ঘুরে যাই
খড়কুটো বাতাসও কী যেনো লিখে ঘুরে ঘুরে

এখন শ্রাবণ মাস
ছেঁড়া দড়িকেও মনে হয় মিলন-অপেক্ষা।
ভ্রম নয়
খোলসে ঢোকার আগে আমিও খুঁজে নি' একবার ----
তাই এত বর্ণ ----  আ-কার,  ই-কার
নাভি থেকে বহুতল ঘুরে ঘুরে ওঠা

মনে হয় ঘূর্ণি ---
টেনে হিঁচড়ে প্যাঁচিয়ে নেয়
ব্যবহৃত আয়ু সহ ভাবনা সকল
শরীর জড়ায় বাক্যে

তারপর ঘুম, জাগরণ,প্রাত:কৃত্য, পড়ার টেবিল ----
কষ্ট নেই আর --- আনন্দ বিহ্বল
ঘাসের ডগা থেকে ঝরছে কুয়াশার আয়ু
অন্ধকার উড়ে গেছে বিস্ফোরণে ----
কত কথা, স্বপ্ন টুকরোটাকরা এখানে-ওখানে

এখন যুদ্ধের মাস
নদীকেও মনেহয় নদের অপেক্ষা
তারপর ঘূর্ণি বিষুবের তলে

তুমি যুদ্ধে যাবে !  যাও ।
তির গেঁথে শুয়ে থেকো মিলনের অপেক্ষায় ----
আমি বর্ণ ঘুরে ঘুরে যাই
খড়কুটো বাতাসও কী যেনো লিখে ঘুরে ঘুরে ----  

কবিতা - নীলাদ্রি ভট্টাচার্য


নাবিক

নাবিকের সহবাসে ব্যবহৃত মেঘ
জন্ম নিলো তোমার বুক অব্দি জল।
নিংড়ে নীলের অভ্যেস আঁকড়ে ধরো
ঠোঁটের নিজস্ব প্রস্থান।
আমি পথমাড়ানো ছায়ায় মাধুকরি বীর্যের
ছুড়ে ফেলা ব্যর্থ তৃপ্তি।
ঘরছাড়া ঘাসে নিশিরাত ভিজতে দাও সিঁদুর
আমি তার প্রসব আছড়ানো শব্দ হাসিমুখে মুছতে থাকি।
অবেলায়.....বেলায় বেলায়.....অবেলায়।